কালিদাস-পূর্বযুগে সংস্কৃত সাহিত্যের সর্বাধিক খ্যাতিমান লেখক হলেন অশ্বঘোষ। তিনি সম্রাট কণিষ্কের (১ম খ্রি.) সমসাময়িক। তাঁর জীবনী সম্বন্ধে বিশদ কিছু জানা যায় না। শোনা যায়, তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন পরে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। প্রথম দিকে মধ্যভারতের নানাস্থানে বৌদ্ধসন্ন্যাসীরূপে তিনি ধর্মপ্রচার করেন এবং পরে কণিষ্কের রাজসভায় পারিষদ ও সভাকবি হন। তাঁর মাতার নাম সুবর্ণাক্ষী। তিনি সাকেত বা অযোধ্যার অধিবাসী ছিলেন।
অশ্বঘোষের নামে প্রচলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বুদ্ধচরিত ও সৌন্দরনন্দ নামক মহাকাব্য এবং শারিপুত্রপ্রকরণ নামক নাটক নিঃসন্দেহে তাঁর নিজস্ব সৃষ্টি। মহাযান শ্রদ্ধোৎপাদশাস্ত্র, বজ্রসূচী, সূত্রাবংকার, গণ্ডীস্ত্রোত্রগাথা, ত্রিদণ্ডমালা প্রভৃতি ক্ষুদ্রাকার রচনাগুলি তাঁর নামে প্রচলিত থাকলেও তিনিই যে এগুলির যথার্থ রচয়িতা সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে।
১৪শ সর্গে বিভক্ত ‘বুদ্ধচরিত’ অশ্বঘোষের একটি মহান শিল্পকর্ম। বুদ্ধের জীবনী ও শিক্ষাসমূহই এর মূল বিষয়বস্তু। আশ্চর্য কুশলতার সঙ্গে কবি এই মহাকাব্যটি রচনা করেছেন। সহজাত বর্ণনা শক্তির অধিকারী কবি কাব্যটির সর্বত্র অত্যন্ত সংযম দেখিয়েছেন। কোথাও বিন্দুমাত্র বাহুল্য পরিদৃষ্ট হয় না। এই গ্রন্থটিতে গৌতমবুদ্ধের জীবনী অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিস্ফুট হয়েছে। গ্রন্থটি পাঠে পাঠকবর্গ গৌতমবুদ্ধের মহিমময় জীবন ও কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে যথাযথ অবহিত হতে পারবেন বলে মনে করি।
আমাদের বর্তমান গ্রন্থটি ‘বুদ্ধচরিত’ গ্রন্থের প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ বলা যায়। কেবল কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিল দীর্ঘ বর্ণনাকে সরল ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে মাত্র। কিন্তু মূল কাহিনীর রস ও বিষয়বস্তু যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।