-দ্যাখেন ক্যামন নিখুঁত কইরা কাটছে গলাটা? দ্যাখেন, ভালো কইরা দ্যাখেন! দ্যাখেন ধরতে পারেন কি না কোনখান থেকে কাটছে? আরে মিয়া দ্যাখেন, দ্যাখেন, ভাআলোওও কইইরা দ্যাখেন, দেখি কইতে পারেন নাকি। হা হা হা...হা.হা.হা...হা হা হা, গর্বে আবদুর রহমানের বুক ভরে ওঠে, চোখ বুঁজে আসে তার। কবিরের চোখ আটকে যায়। শিকারি চোখে খুঁজতে থাকে সে, শ্বাস-প্রশ্বাস থমকে যায় কণ্ঠনালির গোড়ায় তীক্ষ্ণভাবে চোখ রাখে কাটা দাগের ওপর। মরিয়া হয়ে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে, কিন্তু হতাশ হয়, দৃষ্টি থেমে যায়।
সত্যি তো নেই! নেই, কাটা দাগের চিহ্ন তো দূরের কথা, কোথাও সামান্য আঁচড়ের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। কী নিখুঁত করে কেটেছে গলাটা! ক্রমেই ভ্রু দুটো কুঁচকে আসে কপালের মাঝখানে, চোখ এভাবেই ঘোরাফেরা করে কাটা দাগ খুঁজে পেতে; না, নেই! একবার ঝুঁকে আসে সামনে, আবার পেছনে যায়... নাহ্, নেই! হতাশায় আক্রান্ত হয়ে ভাবে, এ-ও কি সম্ভব? যেখানে টাই বাঁধা, সেখানে দৃষ্টি রেখে ক্রমেই যেন মরিয়া হয়ে ওঠে-টাইয়ের নিচ দিয়ে কেটেছে, নাকি টাইয়ের ওপর দিয়ে? কাটা দাগটা কি তাহলে টাইয়ের তলে চাপা পড়ে গেছে!