তিপান্ন বছর, সাত মাস, এবং এগারো দিন ও রাত ধরে অনাকর্ষণীয় ও বিমর্ষ প্রকৃতির ফ্লোরেন্টিনো আরিজা, এই উপন্যাসের তিনজন কেন্দ্রীয় চরিত্রের একজন, অপেক্ষা করে আছে ফার্মিনা দাজাকে পাওয়ার জন্য, সেই যুবতী মহিলা যে একদা তাকে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারপর এক ধরনের বাধ্যবাধকতা ও অন্তর্দৃষ্টির মুহূর্তে তাকে অস্বীকার করেছিল। ফ্লোরেন্টিনো তার নিশি-জাগরণের বহুদীর্ঘ বছর কাটিয়ে চলতে সে ছয়শ বাইশটা অবৈধ যৌনসঙ্গম এবং “অসংখ্য অস্থিরমতি অভিযানে” মেতে ওঠে। অন্যদিকে ফারমিনা একটা ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত নগরের এক বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে এবং তার পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে এক নিষ্করুণ জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা সেই সম্পর্কেরই অতুলনীয় কল্পনার নির্ঘন্ট, বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে তার শুধু গুটি কয়েকই নিদর্শন হয়ে আছে- সেই কল্পনার সঙ্গে রয়েছে এমনই এক মানবিক মোহভঙ্গ যার মাধুর্য, মহানুভবতা ও প্রজ্ঞা বিস্ময়কর। এটা আমাদের এমন এক আনন্দঘন অনুভূতি ও শিক্ষার জন্য একটা মহান স্তোত্রসঙ্গীত উপহার দেয় যাতে রহস্যময় উপায়ে মানবীয় আত্মা ট্র্যাজেডি ও কামাত্মক ভালোবাসার রূপান্তর ঘটায় এবং তার দ্বারা তারও রূপান্তর ঘটে।