খিলক্ষেত ওভারব্রিজের নিচে সমরের সাথে লোকটির প্রথম দেখা হয়েছিল। অবিকল সমরের মতো দেখতে। লোকটি সমরের বাবা ধীরাজ। তারা অন্ধকার রাতে পাশাপাশি হাঁটে। এই শহরে আঁধারে হাঁটা লোকের সংখ্যা বাড়ছে। তারা কেউ কাউকে চেনে না। কেউ কারো সাথে কথাও বলে না। ট্রেন লাইনের পাশে নিঃশব্দে বসে থাকে আর অপেক্ষা করে, আরো কাছের কেউ আসছে- ‘একটি আপাত সমাপ্ত গল্প’ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার।
প্রতিটি মানুষের মায়ের গর্ভই তার জন্মভিটে। জন্মের পর মা সন্তানের নাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় সত্য কিন্তু এই ভিটের গভীরে গ্রথিত থেকে যায় এক অদৃশ্য শেকড়। যে শেকড় কখনো বিচ্ছিন্ন হবার নয়। অথচ নিয়তি কত কত সন্তানকে এই জন্মভিটে থেকে উন্মূল করে, উচ্ছেদ ঘটায়- ‘জন্মভিটে’ গল্পটি সেই শেকড়ের।
সাপে কাটার কিছুক্ষণ পর সফেদ আলী নিজেকে মৃত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখল। নিজের লাশকে এভাবে ফেলে যাবার ইচ্ছা হলো না তার। সে অদূরে তেঁতুলগাছের নিচে অপেক্ষা করতে থাকে। ঘুটঘুটে অন্ধকারেও সফেদ আলী স্পষ্ট দেখতে পায় হাজার হাজার পোকামাকড় সারি ধরে তার নাক কানের গহ্বরের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তার খুব মায়া হয়, আহা! কি মায়ার শরীর ছিল তার! ‘সফেদ আলীর মৃত্যু সংক্রান্ত জটিলতা’ গল্পটি সফেদের মৃত্যুবিষয়ক।
‘এরও দীর্ঘক্ষণ পর মা যখন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, সেই মুহূর্তে আমার ভেতরে জমে থাকা বরফের পাহাড়টি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। সেটি নদী হয়ে তীব্র স্রোত নিয়ে দুচোখ বয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ইচ্ছে হচ্ছে মাকে জড়িয়ে ধরে বলি ‘প্লিজ যেও না মা। কিন্তু আমি স্রোতের মুখে বাঁধ তুলে দিলাম। মাকে আটকাবো সে সাহস কোথায় আমার?’- ‘বরফের পাহাড়’ একজন সুন্দর মা আর অসুন্দর মেয়ের গল্প।
জন্মভিটে গল্পগ্রন্থে দশটি গল্প এমনই। বাস্তব বা পরাবাস্তবের। সাধারণ অথবা অসাধারণের। তবে সব গল্প চেনা নয়।