“নিচে নামার জন্য শামীম লিফটের বাটন টিপল। একটা লিফট দ্রুত নিচে নামতে নামতে এগার তলায় এসে থামল। মনে হয় এগারতলা থেকে কেউ উঠছে। কিছুক্ষণ পরই দশতলায় এসে আস্তে করে লিফটের দরজা খুলে গেল। শামীম লিফটে উঠল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল। পেরিফেরিয়াল দৃষ্টিতে শামীম বুঝতে পারল একটি মেয়ে তার সঙ্গে লিফটে আছে। আর কেউ নেই। মিষ্টি একটা সুবাসে লিফটের ভেতরটা ভরে গেল। শামীম বুঝতে পারে, মেয়েটির কাছ থেকেই এই সুবাসটা আসছে। মনে হয় বাঙালি কোনাে মেয়ে। কারণ মেয়েটি শাড়ি পরেছে। হঠাৎ শামীম মেয়েটির দিকে তাকায়। মেয়েটির মুখের দিকে তাকাতেই বিস্ময় ও সংকোচে শামীম হতবাক হয়ে যায়। বেশ ব্ৰিতও বােধ করছে। মেয়েটিরও একই অবস্থা। নির্জন এই লিফটের ভিতরে দু’জন। মানব-মানবী খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কেউ কোনাে কথা বলছে না। শামীমের মনে হচ্ছে লিফটটা যত শীঘ্র নেমে গিয়ে দরজা খুলবে ততই মঙ্গল। লবিতে যাওয়ার আগেই কোথাও নেমে যাওয়া যায় কি না, সে তাও ভাবছে। মনে হচ্ছে এখান থেকে পালাতে পারলেই তার মুক্তি।”