বাংলা ভাষায় মুষ্টিমেয় যে-কজন প্রত্যয়ী প্রাবন্ধিক আছেন, তাঁদের মধ্যে শিবনারায়ণ রায় অন্যতম। হয়তো নিরপেক্ষ বিচারে এ ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগণ্য লেখকও। তাঁর লেখার সঙ্গে যাঁরা পরিচিত তাঁরা জানেন আমাদের জীবনযাত্রার, সমাজব্যবস্থার, ধ্যানধারণার, ভাষা এবং সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধন শিবনারায়ণের প্রবন্ধ রচনার মূল উদ্দেশ্য। এই প্রয়াসসাধনে তাঁর রচনা দুটি প্রধান ধারায় বহমান। প্রথমটি সমাজের সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং রূপান্তরের উদ্দেশ্যে প্রবহমান, অন্য ধারাটি তেমনই ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষের সাধনায় নিয়োজিত। এই গ্রন্থে লেখকের ছ’টি গ্রন্থ থেকে সাহিত্যসম্পর্কিত সতেরোটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। তাঁর নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি, সাহিত্যপাঠের অভিজ্ঞতা, রুচি, বিবেক ও বুদ্ধি-নির্ভর এই রচনাগুলির অন্তর্লীন গভীরতা যেমন পাঠককে নিয়ত প্রাণিত করে, তেমনই বিস্ময়ের উদ্রেক করে এই বিষয়বৈচিত্র্য। বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদীস্রষ্টা গোয়েটে-শেক্সপিয়র থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কিংবা সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ পর্যন্ত এক দীর্ঘ কালসীমায় তিনি সমান স্বচ্ছন্দ, আলোচনায় সমান অনুসন্ধানী। নিজস্ব চিন্তা ও মত প্রকাশে শিবনারায়ণ কোথাও আপস করেননি। বলিষ্ঠ, সমৃদ্ধ ও সৃজন-সম্ভাবনাময় গদ্যে রচিত এই প্রবন্ধাবলি আবহমান মানুষের বিবর্তনশীল জীবনদর্শনের প্রাতিস্বিক ও বৈশ্বিক-পরিচয়।