অসময় নয়, বরং দুঃসময়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি অনাসৃষ্টি। দেখি অসহায়ের মত। এগিয়ে যাওয়ার সাধ্যি যে নেই। আমাদের আত্মসত্ত্বা কি তাহলে উবে যেতে বসেছে। আসফাক-অনন্তার সকরুণ বিলীন দেখে আমরা কিছুটা আলোড়িত হলেও সংযত হয়ে থাকি কথায়-আচরণে। সাম্যসুখের আপাত দেয়াল ধসে গেছে ভয়ঙ্কর কোনো ‘প্রাগৈতিহাসিক’ সরীসৃপের রথযাত্রার তাণ্ডবে।
মানুষ গোষ্ঠীগতভাবে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়-পর্বতের পাদপ্রান্তে। ওপারে যেতে চায় না-জেনে। হয়তো সেখানেও অপেক্ষায় আছে নিমিষে বিলীন হয়ে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন। পরেও মানুষ হাঁটবে, পার হয়ে যাবে চড়াই-উৎরাইয়ের শেষ সীমানায়, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সুনীতা-টুনটুনি। প্রেম-ভালবাসার ডালি সাজিয়ে। হোক না তা ভূসংলগ্ন, বাতাসে দোল খাওয়া ছোট্ট বাসা। সেখানে জমে আছে অন্তরের কথার ভাণ্ডার। মানুষের সুখের কথা। সেই ভালবাসার আস্তরণে মুড়ে থাকে সবার সারাটা জীবন। এর যে ক্ষয় নেই।
কথাসাহিত্যিক রেজাউর রহমান সংকলিত ১৬তম গল্পগ্রন্থে যে মানবিক হাহাকার জাগিয়ে তুলেছেন তা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।