প্রাচীন বাংলা তথা চর্যাপদের ভাষার সঙ্গে বর্তমান বাংলার তফাত যেরকম, প্রাচীন ইংরেজি তথা “বেউলফ’-এর অ্যাংলাে-স্যাক্সন ভাষার সঙ্গে বর্তমান ইংরেজির তফাত প্রায় সেইরকম। অ্যাংলাে-স্যাক্সন কথাটা এসেছে জর্মনীয় গােত্র এঙ্গেলদের নাম থেকে। এই ভাষা ষষ্ঠ শতাব্দীর দিকে তদানীন্তন রােমক শাসিত ব্রিটেনে নিয়ে আসে তিনটি জর্মনীয় গােত্র : অ্যাঙ্গেল, স্যাক্সন এবং জুট বা গিটরা। অ্যাঙ্গেল, স্যাক্সন এবং জুটদের জীবনযাত্রা ছিল কঠোর। সমুদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের বাঁচতে হত। অপেক্ষাকৃত সুফলা ও শান্ত ব্রিটেনে এসে যখন তারা ঘর বাঁধল, তখন তাদের কাব্যসাহিত্যে পূর্বতন সংগ্রামী জীবনের কঠোরতার ছবি একটা বড় অংশ অধিকার করল। তারা বিশ্বাস করত উইয়ার্ডে বা নিয়তিতে, যে নিয়তি ক্ষমাহীন কঠোরতার সঙ্গে লালন করে মানুষকে। একটা করুণ বিষন্নতা প্রাচীনতম ইংরেজি কবিতার অন্যতম প্রধান সুর। নিয়তির সামনে মানুষ প্রতিকারহীন অক্ষমতার শিকার। নীরবে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া তার আর কোনও উপায় নেই।