মুক্তি যখন নিজের গোপন দুঃখ বলতে যায় তখন সে মিছিলের কোনো কথারই ভ্রুক্ষেপ করে না। কেউ নিজেকে নিংড়ে না-বলা কথা সব বলার সময় অন্যের কথা শুনতে তার ইচ্ছে হয় না।মুক্তি বাইরে রুপোলি আলোয় ঝলসানো চাঁদটার দিকে তাকিয়ে মিছিলকে বলতে শুরু করে তার নানু তার জীবনে একমাত্র মানুষ যার জন্য সে আজও সুস্থ জীবন নিয়ে বেঁচে আছে। উনি না থাকলে মুক্তি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকলেও হয়তো সে জীবন কোনো মানুষের জীবন হতো না। জীবনে বাঁচতে গিয়ে কেবল নারী বলে তার পথচলার বাঁকে বাঁকে তাকে মানুষ নামের কিছু হিংস্র পশুদের মুখোমুখি হতে হয়েছে যারা তাকে কবেই ছিঁড়ে খেতো। বেশিরভাগ নারীদের জীবনে এসব হিংস্র জানোয়ারদের সাথে প্রথম খারাপ অভিজ্ঞতা পরিবার থেকেই শুরু হয়। তারপর সর্বত্র।নারী হয়ে জন্ম নিলে কত-যে বীভৎস অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয় তা কেবল একজন নারী ছাড়া কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।এই সমাজে একজন অভিভাবকহীন নারী যেন সবার কাছে খাসজমির মতো। যে যেভাবে ইচ্ছে যখনতখন দাবি করতে পারে। বড়ো নির্লজ্জ সে দাবি। তখন মনে হয় নারীর জন্য পৃথিবী একটা পুরুষ কারাগার। মুক্তির কথা শুনে মিছিলের বুকটা কেমন চিনচিন করে ব্যথা করছে। মিছিল বুঝতে পারছে খুব ভয়ংকর কিছু শুনতে যাচ্ছে সে।