অনেক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছিল শহিদ ভূপতি সেন কলোনি। তখন মানুষগুলো ছিল স্বচ্ছ। তাদের ভালমন্দ ছিল সাদা-কালোয় আঁকা। চেনা যেত সহজেই। সময় যত গেছে, শহিদ ভূপতি সেন কলোনি জটিল হয়েছে। সেখানে ঢুকেছে রাজনীতি, লোভ, স্বার্থপরতা। সেই কলোনি আজ হবে ঝলমলে, আধুনিক, বিলাসী এবং দামি জনপদ। ছিন্নমূল মানুষ যেমন একসময় জমি খুঁজে ঘর বেঁধেছিল, তেমনই জমি-মাফিয়াদের চাপে ঘরবাড়ি ছেড়ে কাউকে কাউকে সরে যেতে হয়েছে দূরেও। এবার কি নিজের পরিচয়টুকুও ছাড়তে হবে? শহিদ ভূপতি কলোনি তার নাম বদলাবে? কলোনি ঘিরে বহু মানুষের আনাগোনা। কেউ জেলখাটা ‘বিপ্লবী’, কেউ কূট রাজনৈতিক নেতা, কেউ হেরে-যাওয়া দলের সমর্থক, কেউ নির্মম জমি-মাফিয়া, কেউ ধুরন্ধর দালাল, কেউ বুদ্ধিমতী ছাত্রী, কেউ স্বপ্ন-দেখা প্রেমিক। এদের কেউ ভিতরে থাকে, কেউ বাইরে। টানটান কাহিনিতে আছে অস্তিত্বের লড়াই, আছে স্বপ্ন, প্রেম, আছে স্বার্থপরতা, চরম নিষ্ঠুরতা, প্রতিশোধ। প্রচেত গুপ্ত-র ‘শহিদ ভূপতি সেন কলোনি’ উপন্যাসে তারপরেও কেউ মাথা উঁচু করে থাকে। কেউ মানুষকে ভালবাসে।