সে সংগীত কল্পনা করেছিল, কিন্তু গাইবার সামথ্য পায়নি। তেমনই তার সামর্থ্যের ওপারে দাঁড়িয়েছিল প্রেম। তবু গানের কোন ঝরনাতলায় এসে একদিন মিলিত হল গান আর প্রেম! কীভাবে জ্বলে উঠল অন্ধকার ফুলগাছে আলোর ফুল! তারই নিবিড় আলেখ্য এই উপন্যাস। তার নাম সোমনাথ। কলেজের অধ্যাপক। সারাক্ষণ সে যেন গানের বলয়ে বাস করে। গান তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে। তবু সে মনে করে, গান গাইবার কোনও অধিকার তার নেই। নেই কোনও সামর্থ্য। কেননা প্রথাগত শিক্ষা সে পায়নি। ওর গান-পাগল বাবা আর সংগীতপ্রেমী হেডমাস্টার মশাইও মনে করতেন এই কথা। অথচ গান দিয়েই তৈরি এই মানুষগুলির অন্তর-অনুভব-পৃথিবী। একসময় সোমনাথের জীবনে ওই গানের সূত্রেই আসে রক্তমাংসের নারী। কিন্তু প্রেম আসে না। গান হারিয়ে যায়। কত দিগন্তছোঁয়া বেদনা সোমনাথকে ছুঁয়ে থাকে নিয়ত। যন্ত্রণার অন্ধকারে তাকে গাছের মতো দাঁড় করিয়ে রাখে তারা। তবু গানেরা একদিন তার কাছে ফিরে আসে। আসে স্নেহ, প্রেম। এই উপন্যাসে জয় গোস্বামী রচনা করেছেন এক অন্যতর স্বপ্নসুরলোক।