ফুলচোর-এ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় শুনিয়েছেন অনুচ্চারিত প্রেমের স্নিগ্ধ-সুন্দর এক কাহিনি, সেইসঙ্গে উপহার দিয়েছেন আলাদা স্বাদের কয়েকটি অনুপম চরিত্র— একমাত্র তাঁর উপন্যাসেই একান্তভাবে যাদের পাওয়া যায়। এর মুখ্য নায়িকা এক মেয়ে, যার জীবনে রয়েছে এক গোপন কলঙ্কের চিহ্ন, যার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আমেরিকাপ্রবাসী এক বাঙালি যুবকের সঙ্গে, আর যার মাথায় মধ্যে-মধ্যে জাগে উদ্ভট সব খেয়াল। তেমনই এক খেয়ালিপনায় মেয়েটি ফুল চুরি করতে গেল হবু শ্বশুরবাড়ির বাগানে। ফুলচুরির সূত্রেই তার আলাপ হল আরেক বিচিত্রমনা যুবকের সঙ্গে। যুবকটিও বাক্দত্ত, প্রেমিকা থাকে কলকাতায়। অদ্ভুত দোটানায় দিশাহারা সেই যুবকটিকে দেখেই চমকে উঠল মেয়েটি। কোথায় যেন দেখেছে একে! ছেলেটিরও বিষম চেনা লাগল মেয়েটির মুখ। কোথায় দেখা? কবে? মেয়েটিরই মনে পড়ল প্রথম। তার জীবনের কলঙ্কময় ঘটনার অন্যতম সাক্ষী এই ছেলেটি? তারপর? তারপর কী, নিজস্ব ভঙ্গিতে অপ্রতিম ভাষায় সেই কাহিনিই শুনিয়েছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ‘ফুলচোর’ উপন্যাসে। সে-কাহিনি যেমন স্নিগ্ধ, তেমনই সুন্দর।