মাটির ঘোড়া, কাঠের ঘোড়া, কাগজের ঘোড়া, শিল্পের ঘোড়া, সংস্কৃতির ঘোড়া, পিরের ঘোড়া, ধর্মরাজের ঘোড়া—ঘোড়া হরেকরকম। এই জীবটির দ্রুততা, গতি, দুরন্তপনা সব মিলিয়ে রক্তমাংসের ঘোড়া বেশ বাহারিও। ঘোড়ার গাড়ির শোভা এবং সংযোগ ইতিহাসের পায়ে বেঁধে দিয়েছে ছুটন্তের সৌন্দর্য-ঘুঙুর। মূলত তুর্কি আক্রমণের পরই বাংলায় আভিজাত্য বেড়েছে ঘোড়ার। পিরদের সাদা ঘোড়া বাংলা দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তথাপি হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর যুগে এই জীবটি বিরল-অস্তিত্ব। ঘোড়া একই সঙ্গে শুভ এবং অশুভের প্রতীক। যৌনতার প্রতীকও। ধরম ঠাকুরের বাহন ঘোড়া সমগ্র বাংলায় অনেকক্ষেত্রে নিজেই লৌকিক দেবতা ধরমের আসনে বসে পড়েছে। আদিত্য মুখোপাধ্যায় পদাতিক ক্ষেত্রসমীক্ষক। পথে-বিপথে এমন ঘোড়াকে বহুভাবে দেখতে পেয়েছেন, সেখানে ঘোড়া নিয়ে জীবন-জীবিকায় যুক্ত মানুষের আনন্দ-বেদনাও পরখ করেছেন তিনি। ‘অশ্বনামা: সংস্কৃতির ঘোড়া’ সমীক্ষা-নির্ভর ঘোড়া বিষয়ক একটি মূল্যবান বই।