জাপানি সাহিত্যজগতে আকুতাগাওয়া রিঊনোসুকে অতি বিশিষ্ট নাম। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে ‘রাশোমন’ ও ‘নাক’ প্রকাশিত হবার পরেই জাপানের সাহিত্য জগতে আকুতাগাওয়ার আসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ‘নাক’ পড়ে তদানীন্তন জাপানের সাহিত্যসম্রাট নাৎসুমে সোসেকি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে আকুতাগাওয়াকে একটি চিঠি লেখেন। আকুতাগাওয়ার রচনার বৈশিষ্ট্য— স্ফটিকের মতোই স্বচ্ছ সাবলীল ভাষা, গল্পের নিটোল বাঁধুনি, কল্পনাশক্তির বৈচিত্র্য, সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও হাস্যরস, সংবেদনশীল অথচ নিরাসক্ত দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাচীন জাপানি ও চৈনিক সূত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করে সেইগুলিকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলায় আকুতাগাওয়া অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। কিছু কিছু অবাস্তব জিনিসও এই সব গল্পে এমন অনায়াসে এসেছে যে তাদের কষ্টকল্পনা বলে মনেই হয় না। ত্রিশ বছর বয়সের পরে বিভিন্ন কারণে আকুতাগাওয়ার উপরে একটা মানসিক অবসন্নতার ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। তাঁর শেষ পাঁচ বছরে বহু রচনার উপাদান তাঁর নিজের জীবন থেকে সংগ্রহ করা এবং সেগুলির মধ্যে একটা বিশেষ বিষাদের সুর পাওয়া যায়।