জীবন বয়ে যায় বহতা নদীর মতো। সেই নদীর দূকূল জুড়ে জমে থাকা যত হাসি কান্না আনন্দ বেদনার মণিমুক্তো দিয়ে মালা গাঁথা হয়ে যায় মানুষের অগোচরে। সেই মালা কখন সাফল্যের ছোঁয়ায় বরণ করে নেবে লড়াকু মানুষের হৃদয়, অথবা কখন পরাজয়ের গ্লানিতে ভরে দেবে অনাগত দিন, কেউ জানে না। কখন প্রেম আসবে জোয়ারের ঢেউ তুলে আর কখনই বা সেই প্রেমের সমুদ্রে হানা দেবে অসময়ের ভাটা, কেউ জানে না। কতক্ষণ জীবন আছে আর কখনই বা সে থেমে যাবে আকস্মিক আঘাতে, কেউ জানে না। এই অজানা পথের অনন্ত যাত্রা ধরা দেবে এই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে।
তিনজন প্রথিতযশা ব্যক্তি, যে যার ক্ষেত্রে অধিষ্ঠিত নিজের নিজের গতিপথ ধরে। অভিরূপ, অরুণ, সুমন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের কক্ষপথ নানাভাবে ছুঁয়ে যায় আরও অসংখ্য মানুষকে। তিয়াষা, বিপাশা, রাকা, অমল, বনানী, বিলাস আর পিয়াস কোনও অচেনা মুহূর্তে মিলেমিশে যায় একে অপরের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গে। মনের অনেক গোপনে লুকিয়ে রাখা লোভ, লালসা, ষড়যন্ত্র, হিংসা কখনও বা অর্গলবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়ে বাইরে। কিন্তু মানুষের অন্তর্লীন শুভবোধ তাকে ছাপিয়ে যায়। সব কালিমা মুছে দেয় এক অনন্ত ভালবাসার ফল্গুধারা। এক শুভ্র সমুজ্জ্বল প্রেমের জোয়ারে ভেসে যায় প্রাণ, ভেসে যেতে চায় গ্লানিবোধ আর যত ব্যর্থ দিন রাত্রির গান।
রোজকার জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, ক্ষয় বা নির্মাণ, সবটা মিলিয়েই চলতে থাকে এক অনন্ত পরিক্রমণ, যার শুরু আছে কিন্তু নেই কোনও শেষ।