‘মাদার টেরিজা’ নামটি উচ্চারণ করলেই একটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ক্ষুদ্রকায়, অশক্ত চেহারার এক নারী, পরনে সাদা শাড়ি, কলকাতার বস্তিতে, লন্ডনের কার্ডবোর্ডের ঘরে, নিউ ইয়র্কের ‘গেটো’তে, ভ্যাটিক্যানের ছায়ায় যে-সব দরিদ্র লোকের বাস, তাঁদের প্রেম ও করুণা দান করছেন। তাঁর অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সারা পৃথিবী জানিয়েছে শ্রদ্ধা ও সম্মান, ভূষিত করেছে সর্বোচ্চ পুরস্কারে । নোবেল পুরস্কার থেকে আরম্ভ করে রানি এলিজাবেথ প্রদত্ত ‘অডার অব মেরিট’ পর্যন্ত ! এসবই তিনি গ্রহণ করেছেন দরিদ্রদের নামে, যাঁদের তিনি ও তাঁর ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ প্রাণ ঢেলে সেবা করেন। “আমি ঈশ্বরের হাতের একটি পেনসিল ছাড়া আর কিছুই নই,” তিনি বারে-বারে বলেন, “এ সব কাজ তাঁরই।” প্রথম যখন তিনি কাজে নামেন, তাঁর সম্বল বলতে কিছুই ছিল না, ঠিক কীভাবে কাজে এগোবেন। সে-বিষয়ে ছিল না কোনও পূর্বনির্দিষ্ট ধারণাও । ছিল শুধু তাঁর প্রগাঢ় ধর্মবিশ্বাস। তাই নিয়ে তিনি এক বিশাল সঙ্ঘ গড়ে তুলেছেন। একশোর বেশি দেশে তাঁরা ছড়িয়ে পড়েছেন। যারা দুঃস্থ, অনাথ, প্রতিবন্ধী, যারা কুষ্ঠরোগাক্রান্ত এবং যারা মৃত্যুপথযাত্রী, তাদের জন্যে প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন একের পর এক আশ্রয়স্থল। তাঁর মূল কাজ কিন্তু এখনও বস্তিতে-বস্তিতে, রাস্তার ধুলোয় । নবীন চাওলা গভীর সংবেদনশীলতা এবং স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে মাদার টেরিজার কাহিনী বিবৃত করেছেন। অনেক বছর ধরে তিনি তাঁকে চেনেন, তাঁর দুর্লভ সব কাগজ ও চিঠিপত্র তিনি দেখতে পেয়েছেন, অনেকবার কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে ও তাঁর বন্ধু এবং সাহায্যকারীদের সঙ্গে। সর্বোপরি তিনি পেয়েছেন মাদার টেরিজার অকুণ্ঠ সহযোগিতা। তার ফল, এ যুগের সবচেয়ে অসাধারণ নারীর এই প্রামাণ্য জীবনী । ইংরেজিতে সাড়া-জাগানো এই জীবনী-গ্রন্থের বাংলা রূপান্তর প্রকাশিত হল, আনন্দ-শ্রদ্ধার্ঘ্য রূপে।