সরকারীভাবে বেলজিয়ামের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পত্তন হয় ১৭২২ সালে। আবার ১৭৩১ সালে এই কোম্পানী উঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই কোম্পানীর পত্তনের আগেই বেলজিয়ামের কিছু উৎসাহী ব্যক্তি লাভজনক এশিয়া বাণিজ্যে অংশ নেন। ফ্রাঁসোয়া দ্য স্খওনামিলে ছিলেন এঁদের মধ্যে অন্যতম। দ্য স্খোনামিলের জীবনকে সামনে রেখে বাংলায় বেলজিয়ামের বাণিজ্যের ইতিহাসের দুর্লভ বিবরণ পার্মেন্তীর লিপিবদ্ধ করেছেন ‘শূন্যগর্ভ কোম্পানী’তে। আসলে এই বিবরণ আঠারো শতকে বাংলায় ইউরোপীয়দের কার্যকলাপেরও এক চমৎকার ইতিহাস। প্রথম থেকেই ইংরেজ ও ওলন্দাজ কোম্পানী বেলজিয়ামের বাণিজ্যে বাধা দিতে দিতে থাকে। কিন্তু বাংলাকে কেন্দ্র করে আন্তঃএশীয় বাণিজ্যের যে বিস্তৃত প্রবাহ চালু ছিল, সব ইউরোপীয় কোম্পানীর কর্মচারীরাই ব্যক্তিগত বাণিজ্যের সূত্রে তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দু’প্লে, ভ্যাঁস, গ্রীনহিল,সিখ্তারমন এবং এঁদের মতো আরও অনেক ইউরোপীয় লক্ষ্য ছিল মূলত একটাই : লাভজনক এশিয়া বাণিজ্যে অংশ নেওয়া এবং গোপনে লাভের অংশ ইউরোপে পাচাদ করা। এঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন টেম্পেস্ট মিলনারের মত প্রাইভেটীয়াররা। এই অবস্থার সুযোগ নেন বাংলায় বেলজিয়ামের কুঠির প্রধান ফ্রাসোঁয়া দ্য স্খোনামিলে। সরকারীভাবে বেলজিয়ামের বাণিজ্য নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও দ্য স্খোনামিলের অধীনে বাংলায় বেলজিয়ামের কুঠি কিভাবে ১৭৪০ এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত টিকেছিল, সেই অনুপম কাহিনী এখানে পাওয়া যাবে।