ষাট দশকে নির্মলেন্দু গুণের আবির্ভাব। তখন বাংলাদেশের কবিতায় একটা নতুন চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কয়েকজন তরুণ কবি, দুঃখী প্রজন্মের সদস্য, স্বল্প প্রচারিত এই ইশতেহারের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব ঘােষণা করেছিলেন। নির্মলেন্দু গুণ, আমার ধারণা, দুঃখী প্রজন্মের কেউ নন। তিনি উক্ত কবিদের আবির্ভাবের কিছু পরে উপস্থিত হলেন তার সপ্রতিভ, চটপটে এবং মনােমুগ্ধকর কবিতাবলী নিয়ে। তখন তাঁর কবিতা ছিল আত্মকেন্দ্রিক, কিছুটা বিষয়বাসী। কিন্তু দেশ ও দশের প্রতি তার অসামান্য মমত্ববােধ তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিলাে এমন সব কবিতা, যেগুলাে রৌদ্রাভিসারী, খােলামাঠের হাওয়ার মতাে দুরন্ত, উদ্দ্যম। তার কবিতা ক্রমশঃ হয়ে উঠলাে রাজনীতি সচেতন। মাঝে মধ্যে অন্য ধরণের কবিতা লিখলেও মূলতঃ রাজনীতিকেই তিনি কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করলেন, তবে কাব্যধর্মকে বিসর্জন দিয়ে নয়। স্বাধীনচেতা এই কবি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যােগ দিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রেরণায় জ্বলে উঠে লিখেছিলেন ‘আগ্নেয়াস্ত্র’র মত সাড়া জাগানাে কবিতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর বােধহয় তিনিই সর্বপ্রথম সে সম্পর্কে কবিতা লিখেছিলেন। তখন এ কবিতা লেখা সম্ভব ছিলাে শুধুমাত্র একজন সাহসী খাটি বাঙালি কবির পক্ষে দুর্লভ এই সাহসিকতা। এই সাহসিকতা ও জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্ববােধই নির্মলেন্দু গুণকে আমাদের জনপ্রিয়তম কবি করে তুলেছে।