বিধুশেখর, আনন্দশেখর ও ইন্দ্রজিৎ -- এই তিনপুরুষের ইতিকথা লেখার ভার পড়েছে প্রবাসী বিজ্ঞানী অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর। বিধুশেখর স্টিমার কোম্পানির কেরানি, আনন্দশেখর আচার্য প্রফুল্লচন্দ্ররায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত কেমিস্ট, আর ইন্দ্রজিৎ নতুন প্রজন্মের গান ও সিনেমার পথিকৃৎ। স্মৃতি-বিস্মৃতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা তিন পুরুষের ঘটনা ব্যাপ্ত হয়ে আছে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। পরাধীন ভারত থেকে স্বাধীন ভারত, দুর্ভিক্ষ, নিষ্ঠুরতম দাঙ্গা, স্বাধীনতা, দেশবিভাগের জ্বালা-যন্ত্রণা, ব্যর্থ বিজ্ঞানীর আদর্শ ও সংঘাত, নকশাল আন্দোলনের উত্তাল রাজনীতি, স্বজন হারানোর ব্যথা বেদনা মূর্ত হয়ে উঠেছে ‘জ্যৈষ্ঠের হলুদ দুপুর’-এ। সাধারণ মধ্যবিত্তের এক অসাধারণ কাহিনি এই বইয়ের পাতায় পাতায়—গান-বাজনায় শিল্পে-সাহিত্যে ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকে যে-মধ্যবিত্তের স্বচ্ছন্দ বিচরণ। চারপাশে ছড়ানো জীবন থেকে তুলে-নেওয়া এই কাহিনি বিচ্ছিন্ন গল্প নয়—এর দীর্ঘ ছায়া দেশবিভাগে পীড়িত বহু বাঙালি পরিবারের মধ্যে লুকিয়ে আছে। এ যেন বিংশ শতাব্দীর বাঙালির ইতিহাস। জীবনের যাবতীয় অভিজ্ঞতার নিরিখে আগামী প্রজন্মের মানুষের সার্থকভাবে বেঁচে থাকার ঠিকানা। বাংলা সাহিত্যে ব্যতিক্রমী সংযোজন এই বই—তিন পুরুষের টানাপোড়েনের এক অভিনব কাহিনি।